শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
কোভিড-১৯ মহামারীর উৎস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলের একটি দাবি। প্রকাশিত কিছু গোপন নথির ভিত্তিতে বলা হয়েছে, চীনের উহান ল্যাবে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস গবেষণায় অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (ডিএনআই) বিদায়ী পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড পদ ছাড়ার আগে এসব নথি প্রকাশ করেন। তার কার্যালয়ের দাবি, এই নথিগুলো এতদিন জনসমক্ষে আসেনি এবং এগুলো কোভিড-১৯-এর উৎপত্তি ও তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড় থেকে পাওয়া করোনাভাইরাস নিয়ে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ ধরনের উচ্চঝুঁকির গবেষণায় মার্কিন অর্থায়ন গিয়েছিল, যার সঙ্গে ফাউচির সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, মহামারীর শুরুর দিকে ভাইরাসের উৎস নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় ফাউচি প্রাকৃতিক বা প্রাণিজ উৎস তত্ত্বকে প্রাধান্য দিতে চাপ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি এই গবেষণার বিষয়টি আড়াল করার জন্য তিনি সচেতনভাবে কিছু তথ্য গোপন করেছিলেন বলেও অভিযোগ তুলেছে গ্যাবার্ডের কার্যালয়।
এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তদন্তকে বিভ্রান্ত করা এবং ভুল পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে ফাউচির ভূমিকা ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি গবেষণায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ওই নথির বরাতে বলা হচ্ছে, বাস্তবে ফাউচি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। অথচ কংগ্রেসের শুনানিতে শপথ নিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ভাইরাস গবেষণা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।
অ্যান্থনি ফাউচি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজ (এনআইএআইডি)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। কোভিড মহামারীর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম মুখ্য পরামর্শক ছিলেন।
গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে এবং এতদিন ধরে তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তির পর জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা জরুরি। তার ভাষায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৃত তথ্য আড়াল করা হয়েছে এবং এর জবাবদিহি হওয়া উচিত।
এই অভিযোগগুলো নতুন করে কোভিড-১৯-এর উৎপত্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বচ্ছতা এবং নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।
