নিখুঁত পারমাণবিক ঘড়ি বানাল সিঙ্গাপুর

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ঘড়িটি এতটাই নিখুঁত যে, তা ‘সেকেন্ড’-এর সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ঘড়ি তৈরিতে লুটেসিয়াম মৌল ব্যবহার করেছেন সিঙ্গাপুরের সেন্টার ফর কোয়ান্টাম টেকনোলজিসের গবেষকরা।

গবেষকরা জানান, নতুন ঘড়িটি দশমিকের পর উনিশ ঘর পর্যন্ত সময় নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে। এই ঘড়ি সময় পরিমাপের পদ্ধতি পাল্টে দেওয়ার পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞানের অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের গবেষক মারে ব্যারেট বলেন, এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত ঘড়ি। পারমাণবিক ঘড়ি পরমাণুর ইলেকট্রনের শক্তির স্তর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের গতি হিসাব করে। গত শতাব্দীর ষাট দশক থেকে সিজিয়াম পরমাণু বিশ্বব্যাপী সময়ের মান ঠিক করে আসছে এবং জিপিএস ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সচল রাখছে। ইটারবিয়াম ও স্ট্রনশিয়ামের মতো অন্যান্য মৌল সিজিয়ামের তুলনায় অনেক দ্রুত অসিলেট করায় এটি আরও বেশি নির্ভুলতা দিতে পারে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে লুটেসিয়াম মৌল নিয়ে গবেষণা চালিয়ে এই সফলতা অর্জন করেছে সিঙ্গাপুরের গবেষক দলটি। লুটেসিয়াম ঘড়ির ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে অসাধারণ নির্ভুলতা পাওয়া গেছে। লুটেসিয়ামের বিশেষ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তাপমাত্রা বা চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের ফলে এর ফ্রিকোয়েন্সিতে কোনো প্রভাব পড়ে না। গবেষক মারে ব্যারেট বলেন, ঘড়িটি পৃথিবীর উষ্ণতম স্থান ডেথ ভ্যালি বা অ্যান্টার্কটিকার শীতলতম এলাকায়ও ব্যবহার করা যাবে।

ঘড়িটি তৈরি করতে একটি ট্র্যাপড লুটেসিয়াম আয়ন ও লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষক দলের সদস্য মাইকেল লি জানান, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য আকারে বড় ঘড়িটিকে ছোট করে সহজে বহনযোগ্য করা। এ ধরনের অতি নিখুঁত অপটিক্যাল ঘড়িগুলো মহাকর্ষের ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে ও পদার্থবিজ্ঞানের জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করতে পারে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *