শিরোনাম

অস্ট্রেলিয়া–কানাডার ভিসার নামে প্রতারণা, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ২

শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চাকরি এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মারিফুল ইসলাম (২১) ও বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুর (২৮)। তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ গ্রেপ্তার করে।

ডিবি সূত্রে জানায়, এক ভুক্তভোগী অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির আশায় অভিযুক্তদের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল পরীক্ষা, ভিসা প্রসেসিং, কাগজপত্র যাচাইসহ নানা খাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। পরে আরও অর্থ দাবি করা হলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে গত মঙ্গলবার নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, সাতটি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং নয়টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। ডিবির দাবি, পাসপোর্টগুলো ভুয়া।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে ভিসা, মেডিকেল পরীক্ষা, কাগজপত্র যাচাই, বিমান টিকিটসহ বিভিন্ন খাতের কথা বলে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করতেন।

ডিবি আরও জানায়, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য চক্রটি ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা অনুমোদনপত্র, এলএমআইএ (LMIA) এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি একটি ভুয়া ভিসা যাচাইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করত। ওই ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর দিলে ভিসা অনুমোদনের বার্তা দেখানো হতো। জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য, ভুক্তভোগীদের তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের আলামত এবং ভুয়া ভিসাসংক্রান্ত নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবির দাবি, চক্রটি এ পর্যন্ত ৭২ জনের বেশি চাকরিপ্রত্যাশীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে।

গ্রেপ্তার দুজনকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *