শিরোনাম

রাজাপুরে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চিকিৎসাসেবা না দিয়ে রোগী ও তার স্বজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, গত রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে তিনি শিশুর সমস্যার কথা জানান এবং তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। এ সময় চিকিৎসক জানান, বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা হাসপাতালে নেই এবং বিকেলে আসতে বলেন।

পরে যোগাযোগের সুবিধার জন্য চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করেন তানভীর। তার দাবি, এ সময় চিকিৎসক একজন বিসিএস ক্যাডারকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করা এবং তার ফোন নম্বর চাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তাদের হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকের মধ্যে কথোপকথনের একটি অংশ দেখা যায়। সেখানে রোগীর স্বজনকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রথমে চিকিৎসককে সালাম দিয়ে পরে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন। জবাবে চিকিৎসক তাকে চলে যেতে বলেন।

তানভীর হাসানের ভাষ্য, তিনি অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং চিকিৎসককে সম্মান করেই কথা বলেছেন। তবে ‘ভাই’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তার শিশুর চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ তার।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. আরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ ঘটনাটিকে মূলত ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ডা. আরিফুল ইসলাম একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ চিকিৎসক। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চিকিৎসক ‘ভাই’ সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন—এমন বিষয় স্পষ্টভাবে শোনা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও পেশাদার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই ও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ঘটনাটি চিকিৎসাসেবায় পেশাগত আচরণ, রোগীর অধিকার এবং পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

LiveNews.com.bd-এর সঙ্গে থাকুন দেশের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ জানতে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *