তৃণমূল সক্রিয় করার উদ্যোগ বিএনপির

 শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬

দীর্ঘ দেড় যুগ আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুমসহ দুঃসহ নির্যাতন ভোগের পর প্রায় তিন মাস আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নেতারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সরকারি কাজকর্মে। বিপরীতে যে দলের বদৌলতে রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই দলের কর্মকাণ্ডে দেখা দিয়েছে লক্ষণীয় স্থবিরতা। ‘সরকার চাঙা’ হলেও দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পুরো মাত্রায় স্থবির। স্থবিরতা কাটাতে বিশেষ করে তৃণমূল সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সারা  দেশের জেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। এ ছাড়াও বৈঠকে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে দল, সরকার, স্থানীয় সমস্যা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সম্পর্কেও মতামত নেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম বড় কোনো সাংগঠনিক বৈঠক।

বিএনপির দায়িত্বশীল অনেকে বলছেন, নির্বাচনের পর অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক ধরনের শূন্যতা বা শৈথিল্য তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তৃণমূল ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী নেতারা সরকার ও সংসদীয় কাজে ব্যস্ততা হয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া, সমন্বয়ের অভাব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দুর্বল তদারকিকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সমন্বয়হীনতা এবং কিছু নেতা-কর্মীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে। সূত্র বলছে, দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে আজকের বৈঠক থেকে সরাসরি নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃণমূল সক্রিয় করার লক্ষ্যে সরকারের বাইরে থাকা দলের সিনিয়র নেতাদের আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যেসব নেতা মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হননি, তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন তদারকি এবং দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপি একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এ অবস্থায় দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সারা দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আজকের সভা বিশেষ গুরুত্ব রাখবে। চেয়ারম্যানের দেওয়া দিকনির্দেশনা সংগঠনকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বৈঠক ঘিরে ইতোমধ্যে আমরা সব জেলা ইউনিটের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমাদের নেতা তারেক রহমান সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *