স্পেন ও প্রত্যন্ত দ্বীপে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক, দুই নতুন সন্দেহভাজন শনাক্ত

 শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬

বিলাসবহুল একটি প্রমোদতরী থেকে শুরু হওয়া হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এবার স্পেন ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ ত্রিস্তান দা কুনহায় আরও দুইজনের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

শুক্রবার হাজার হাজার মাইল দূরের এই দুই ভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য সংক্রমণের খবর সামনে আসায়, ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখন পর্যন্ত আশ্বস্ত করে বলেছে যে, এই ভাইরাসে সাধারণ জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কম এবং এটি সহজে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না।

স্পেন ও ত্রিস্তান দ্য কুনহার পরিস্থিতি:

স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আলিকান্তে ৩২ বছর বয়সী এক নারীর দেহে হান্টাভাইরাসের মতো উপসর্গ দেখা গেছে। তাকে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্পেনের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হাভিয়ের পাদিলে জানান, ওই নারী উড়োজাহাজে এমন একজন ডাচ নারীর ঠিক পেছনের আসনে ছিলেন, যিনি প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’ থেকে হান্টাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিলেন।

ওই ডাচ নারী গত ২৫ এপ্রিল জোহানেসবার্গ থেকে উড়োজাহাজটি ওড়ার আগেই অসুস্থ বোধ করে নেমে যান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে, ত্রিস্তান দা কুনহা দ্বীপে এক ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহ করা হচ্ছে।

তিনি ডাচ পতাকাবাহী ওই প্রমোদতরিটিরই একজন যাত্রী ছিলেন, যা গত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দ্বীপটিতে যাত্রা বিরতি করেছিল।

তবে ডব্লিউএইচও-র ভাইরাস বিশেষজ্ঞ আনাইস ল্যাগান্ড এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “প্রমোদতরীতে থাকা এবং সেখান থেকে নেমে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ভাইরাসটি যেভাবে ছড়াচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে আমরা এখনও বলছি যে, সাধারণ জনগণের জন্য এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কম।”

হান্টাভাইরাস কী:

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, হান্টাভাইরাস বলতে এমন এক ধরনের ভাইরাসকে বোঝায়, যা ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহে থাকে। প্রধানত ইঁদুরের শুকনো মল থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা শ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সিডিসি)-এর মতে, সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সংক্রমণ ঘটে। যদিও বিরল, তবুও ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

এই ভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে। প্রথমটি হলো হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম বা এইচপিএস। এতে সাধারণত শুরুতে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা দেখা যায়। পরে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি এবং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সিডিসি’র মতে, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। দ্বিতীয় রোগটি হলো হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম বা এইচএফআরএস, যা আরও গুরুতর এবং প্রধানত কিডনিকে আক্রান্ত করে। পরবর্তী উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে নিম্ন রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকলতা।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’।

অ্যান্টার্কটিকা ও অন্যান্য স্থানে বিরতি দিয়ে এটি আফ্রিকার পশ্চিমে কেপ ভার্দে জলসীমায় পৌঁছানোর পর যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের খবরটি সামনে আসে।

ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের পেছনে হান্টাভাইরাসের ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ দায়ী। এটিই হান্টাভাইরাসের একমাত্র ধরণ যা মানুষের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

তবে এটি কেবল সংক্রমিত ব্যক্তির দীর্ঘক্ষণ অতি নিবিড় সংস্পর্শে থাকলেই অন্যের শরীরে ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। এখন পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *