বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
চ্যাম্পিয়নস লিগের তৃতীয় রাউন্ডে পিএসজির কাছে হেরে বার্সেলোনার মনোবলে বড় ধাক্কাই লেগেছিল। পরের ম্যাচেও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে লা লিগায় তাদের জয়যাত্রা থেমে যায়। গতকাল ন্যু ক্যাম্পে তারা অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ে ফিরল।
শুরুতেই লামিনে ইয়ামালের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন ইউরোপের সবচেয়ে সফল গোলদাতা রাফিনিয়া। তাতে অ্যাস্টন ভিলা কোচ উনাই এমেরির ৫৫তম জন্মদিন হলো ভুলে যাওয়ার মতো।
স্প্যানিশ কোচ হয়তো আর শিগগিরই এই শহরে ফিরতে চাইবেন না। এনিয়ে বার্সেলোনায় ১৬ ম্যাচে ১৫টি হেরে গেলেন এমেরি। এর মধ্যে ৯ বছর আগে বিখ্যাত ‘রেমোন্তাদা’র সাক্ষী হয়েছিলেন তিনি, প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জয়ের পর ন্যু ক্যাম্পে তার দল পিএসজি ৬-১ গোলে হেরে শেষ ষোলোতে বিদায় নেয়।
দিনটা অ্যাস্টন ভিলার জন্য স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল। এমেরির গত চার বছরের মেয়াদে ক্লাবের চমৎকার উন্নতির স্বীকৃতি দিতে ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন এর একনিষ্ঠ ভক্ত প্রিন্স উইলিয়াম।
প্রথমার্ধে সমতা ফেরানোর কয়েকটি সুযোগ পেয়ে ম্যাচটা আরও বেশি স্মরণীয় করতে পারতো ভিলা। কিন্তু এই হারে লিগ পর্বে তাদের শতভাগ জয়ের ধারার অবসান ঘটে।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার জন্য গোল করতে সমস্যা হয়নি। তাই ভিলার জন্য বিনা পরিশ্রমে গোল করা মোটেও কাম্য ছিল না। সপ্তম মিনিটে তারা নিজেদের ভুলে গোল খায়। গোল কিক থেকে মারাত্মক ভুলে জোয়াও গোমেস সরাসরি ইয়ামালকে পাস দেন, ১২ গজ দূর থেকে তিনি কোনাকুনি শটে গোল করেন।
ভিলা কয়েক মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরানোর কাছে ছিল। দুটি কর্নার থেকে বার্সার এলেমেলো রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে গোল করতে পারতো তারা। প্রথমে ম্যাটি ক্যাশের দূরের পোস্ট থেকে নেওয়া শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে মাঠের বাইরে যায়। পরেরটিতে গোমেস ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো তার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে ফেলেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জোয়াও কানসেলো দারুণভাবে ব্লক করেন তার শট।
ভিলা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং বার্সার অর্ধে আক্রমণ করে। ১৯তম মিনিটে সমতা ফেরানোর কাছে ছিল। নিকোলাস জ্যাকসন ডানপ্রান্ত দিয়ে এগিয়ে বল বাড়ান। জোহান মানজাম্বি গোলবারের পাশ দিয়ে বল মারেন।
জ্যাকসনকে আবারও হতাশ হতে হয়। তাকে শুধু জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেই হতো। কিন্তু বার্সা কিপার এগিয়ে এসে পা দিয়ে ট্যাকল করে বল বিপদমুক্ত করেন।
মানজাম্বি বক্সে ঢুকলে আবারও ভিলা হুমকি তৈরি করে, কিন্তু গার্সিয়া তা রুখে দেন। এত এত সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে অতিথি দলকে। ৫২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সা। ফারমিন লোপেজ বক্সের প্রান্তে রাফিনিয়াকে বল দেন এবং তার শট পাউ তোরেসের গোড়ালিতে লেগে দিক পাল্টে গোলপোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়।
১২ মিনিট পর আসে তৃতীয় গোল। কানসেলো জন ম্যাকগিনকে কাটিয়ে রাফিনিয়াকে বল দেন, ছয় গজ দূর থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ১৯ গোল হলো তার।
লিওন গোরেৎকার একটি চমৎকার হেড গোলপোস্টে লাগলে ভিলার স্কোরশিটে নাম লেখা হয়নি। তারপর বোবাকার কামারাকে ভুল পাস দিয়ে বিপদে পড়েন ভিলা গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। ফিরতি শটে ফারমিনকে রুখে দেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ কিশোর গোলদাতা হওয়া ইয়ামাল পরে দুটি শট নিলেও গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন।
