শিরোনাম

নীলফামারীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে ইউপি চেয়ারম্যান

 রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

নীলফামারীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানকে (৬২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আমিনুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে।

মামলার নথি ও আদালতে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গোপন বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই রাতে বিদ্যালয় মাঠে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫০টি লিফলেটের একটি বান্ডিল, সাতটি লোহার রড ও ৬৮টি বাঁশের লাঠি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন বানচাল, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে ওই বৈঠক চলছিল। উদ্ধার করা লিফলেটে দলীয় কর্মসূচি সফল করতে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের নির্দেশনা ছিল বলেও দাবি পুলিশের।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে আমিনুর রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমিনুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, নীলফামারী থানায় করা মামলাটির এজাহার নম্বর ১৪। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৮, ৯(১), ১০ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

আমিনুর রহমানের আইনজীবী মোরসালিন ইসলাম বলেন, তাঁরা তাঁর জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত এ মামলায় তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *