বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনা জাহাজে বিষাক্ত সায়ানাইড পাওয়ার দাবি করেছে ফিলিপাইন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল এ অঞ্চলে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় নৌ অভিযানের সময় জব্দ করা উপকরণ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে সায়ানাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধু পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘন নয়, বরং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডও হতে পারে। সায়ানাইড ব্যবহারের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এতে মাছের মজুত ধ্বংস হয় এবং প্রবাল প্রাচীরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
ওই প্রবাল প্রাচীরের ওপর ফিলিপাইনের একটি নৌ জাহাজ অবস্থান করছে, যা ম্যানিলার আঞ্চলিক দাবির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিলিপাইনের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এ অভিযোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওই অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ২০২৪ সালের এক ঘটনায় ফিলিপাইনের একজন নাবিক আহত হন। ফিলিপাইন অভিযোগ করে আসছে, চীন তাদের রসদ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফিলিপাইনকেই জলসীমা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।
দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত অঞ্চল। চীন প্রায় পুরো জলপথ নিজেদের বলে দাবি করে, যা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়েও চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যাত হলেও বেইজিং তা মানেনি। প্রতি বছর এই জলপথ দিয়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিশ্ব বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সায়ানাইডের এই ঘটনা সমুদ্র বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন কেবল সামরিক উপস্থিতি নয়, পরিবেশ ও অবকাঠামোকেও কৌশলগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
