সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গোরুক শহর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এসব হামলা ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ এবং এটি ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।
সেন্টকমের ভাষ্যানুযায়ী, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দু’টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, এসব স্থাপনা ও ড্রোন আঞ্চলিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠেছিল। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপ উভয়ই পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক এই হামলা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি
মার্কিন ঘোষণার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় তেহরান সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
