শিরোনাম

ক্ষমতায় বিএনপি, চাপে সংগঠন

আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি এখন সরকারে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা মন্ত্রিসভায়, কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বড় অংশ সংসদ সদস্য। অনেকে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন তাঁরা বেশি ব্যস্ত। এর প্রভাব পড়েছে দলীয় কর্মকাণ্ডে।

এমন এক সময়ে আজ ১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। ক্ষমতায় ফেরার ছয় মাসে দলটির সামনে এখন বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনকে কতটা সক্রিয় ও জনসম্পৃক্ত রাখা যাচ্ছে।

ক্ষমতার বাইরে থাকা দুই দশকে আন্দোলন-সংগ্রামই ছিল বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখন সেই জায়গা নিয়েছে সরকার পরিচালনা। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক তৎপরতা আগের তুলনায় কমেছে। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে বড় রাজনৈতিক তৎপরতাও চোখে পড়ছে কম।

ক্ষমতায় ফেরার পর বিএনপির মাঠপর্যায়ের রাজনীতির চরিত্রও বদলেছে। দুই দশকে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা এখন দলীয় পদ, সরকারি সুবিধা কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পাওয়ার দিকে।

জেলা-উপজেলায় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন তৎপরতা। ঢাকায় এসে নেতাদের সঙ্গে দেখা করা, এলাকায় নিজেদের প্রভাবের বিষয়টি জানান দেওয়া এবং স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করাই অনেকের প্রধান লক্ষ্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বঞ্চনার ক্ষোভ।

আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন এলাকায় দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ। আন্দোলনের সময় মাঠে না থাকা ব্যক্তিদের এখন সরকার ও প্রশাসনে জায়গা পাওয়া নিয়েও তৃণমূলে অসন্তোষের সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ‘মব’ সন্ত্রাস, দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠছে।

এ বিষয়ে গত ২৭ আগস্ট বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কথা বলেন। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, সংশোধন না হলে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কারও মুখ দেখা হবে না।

দলের নেতাদের আশঙ্কা, এসব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি। কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠে এসব নির্দেশনা কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেটিই এখন প্রশ্ন।

জেলা-উপজেলায় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন তৎপরতা। ঢাকায় এসে নেতাদের সঙ্গে দেখা করা, এলাকায় নিজেদের প্রভাবের বিষয়টি জানান দেওয়া এবং স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করাই অনেকের প্রধান লক্ষ্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বঞ্চনার ক্ষোভ।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *