শিরোনাম

নেপাল ট্র্যাজেডি: শনাক্ত করা যাচ্ছে না শত শত মরদেহ

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

নেপালের চিতওয়ান জেলায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মরদেহ শনাক্ত করা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই জেলায় উদ্ধার ২৩৩টি মরদেহের মধ্যে মাত্র চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণ-মধ্য নেপালের তেরাই অঞ্চলে অবস্থিত চিতওয়ান জেলা প্রশাসনের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার করা অধিকাংশ মরদেহ ও দেহাবশেষ ইতোমধ্যে পচন ধরায় সেগুলো শনাক্ত করা আর সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসন বলেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা মরদেহ এবং দেহাবশেষগুলো দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে পচন ধরে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেগুলোর চেহারা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

কর্মকর্তারা জানান, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করা ২৩৩টি মরদেহের মধ্যে মাত্র চারটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ২২৯টি মরদেহ বিভিন্ন সংরক্ষণকেন্দ্র ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে।

পরিচয় শনাক্তের জন্য কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

নদী ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উদ্ধার মরদেহ

বন্যার তীব্র স্রোতে বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর নদীর তীর, বিভিন্ন এলাকা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। প্রবল স্রোত ও দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে মরদেহগুলো দ্রুত পচে যাওয়ায় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, মরদেহগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে

মরদেহ শনাক্ত করতে না পারায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। স্বজনেরা একদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন, অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাদের প্রিয়জন আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি মরদেহ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ অব্যাহত থাকবে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পাওয়া সব তথ্য ও নমুনা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মরদেহ শনাক্ত করা না যাওয়ার ঘটনা বন্যার ভয়াবহতা এবং দুর্যোগের পর নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া মানবিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *