শিরোনাম

কৃষিতে আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের, হচ্ছেন স্বাবলম্বী

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কৃষি নিয়ে লেখাপড়া করে তরুণরা উদ্যোক্তা হচ্ছেন, হচ্ছেন স্বাবলম্বী। কুমিল্লা অঞ্চলে প্রথম কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজ এই উদ্যোগ নেয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। প্রথমে শিক্ষার্থী পাওয়া ছিলো কষ্টকর। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝাতে হতো। বর্তমানে কুমিল্লা কোটবাড়ি চৌরাস্তা সংলগ্ন ধনপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছে। তাদের অধিকাংশ উদ্যোক্তা। বাকিরা সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসে পাঠ গ্রহণের পর শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের মাঠে চাষ করা সবজি ও মসলার আগাছা নিড়ানি দিয়ে মুক্ত করছেন। শিক্ষক ধারণা দিচ্ছেন কোন সবজিতে কত পরিমাণের জৈব সার দিতে হবে। ফসলের কোন অবস্থায় কী ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ল্যাবরেটরিতে করা হচ্ছে নানা পরীক্ষা। পাশের পুকুরে মাছ চাষ ও খামারে গবাদি পশুর রোগ ব্যাধি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি স্থানীয় একটি স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। তিনি বলেন, এখানে এসে যে অনুপ্রেরণা পেয়েছি তা আমাকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া গ্রামের মো. এখলাছুর রহমান ২০১০ সালে কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি গবাদি পশু ও মাছের ওষুধ তৈরিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, এখানের ডিপ্লোমা কোর্সের বই গুলো অনেক সমৃদ্ধ। বই গুলো পড়লে কেউ বেকার থাকবে না।

শিক্ষক অরুণা বেগম, শাফায়েত হোসেন ও ডা. এনাম আহমেদ বলেন, কৃষি ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের ২৮টি সেক্টরে চাকরির সুযোগ আছে। অন্যদের সেই সুবিধা নেই। উদ্যোক্তা হয়ে ৫-৭বছরে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে। প্রবাসেও তাদের ভালো চাকরির সুযোগ রয়েছে। নিশ্চিত ক্যারিয়ারের জন্য শিক্ষার্থী কৃষিডপ্লোমাতে ঝুঁকছে।

তারা আরো বলেন, আমাদের অর্থনীতির ৪৩ভাগ কৃষি নির্ভর। প্রশিক্ষিত কৃষক ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। এজন্য কৃষি ডিপ্লোমার বিকল্প নেই।

কলেজের প্রশিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, ক্লাসরুমে আমরা বইতে পড়াই। পাশে মাঠে হাতে কলমে সবজি চাষ, মাছ চাষ, গবাদি পশু পালন ও এর রোগ ব্যাধি নিয়ে অবহিত করি।

কলেজ অধ্যক্ষ পরামানন্দ গোস্বামী বলেন, আমাদের কলেজটি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান। আমরা বেকার নয় উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করছি। এখানে অধ্যয়ন করে বেকার থাকার উদাহরণও নেই বললে চলে। এটিকে গ্রাজুয়েট প্রতিষ্ঠান করার স্বপ্ন রয়েছে। 

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *