শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
নারী ফুটবলের উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বীকৃতি বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপের পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী আসরে মোট পুরস্কারের অর্থ বেড়ে অন্তত ২২ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। শুধু দলীয় পুরস্কার নয়, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ন্যূনতম পারিশ্রমিকও দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য নির্ধারিত ৩০ হাজার ডলারের ন্যূনতম পারিশ্রমিক বাড়িয়ে এবার ৬০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপে মোট আর্থিক বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১১ কোটি ডলার ছিল পুরস্কারের অর্থ। বাকি ৪ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল দলগুলোর প্রস্তুতি এবং ক্লাবগুলোর সুবিধার জন্য। নারী বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ আর্থিক বরাদ্দ।
২০২৩ সালের আসরে প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ফিফা। এর আগে সাধারণত জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হতো। তবে ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তাবিত এই অর্থবৃদ্ধি ফিফার আগের প্রতিশ্রুতির তুলনায় এখনো অনেক কম।
২০২৩ সালের মার্চে রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের ৭৩তম সভায় সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে সমান পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।
কিন্তু পুরুষদের বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করলে নারী ফুটবলে আর্থিক ব্যবধান এখনো অনেক বেশি। ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৮৭ কোটি ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে ফিফা। এর মধ্যে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দলের পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের জন্য রাখা হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এ অবস্থায় নারী বিশ্বকাপের পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। আগামী ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিলে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে প্রথমবারের মতো বসতে যাচ্ছে নারী ফুটবলের এই বিশ্ব আসর। পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে নারী ফুটবলারদের আর্থিক প্রাপ্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির পথে এটি হবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
