রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
কক্সবাজারের কলাতলী প্রধান সড়কের দুপাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলের অভিযানে বাস কাউন্টার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে এ অভিযান চালানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সওজের প্রায় ছয় একর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদের সময় মালিকরা আপত্তি জানিয়ে সময় চাইলে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের আগে তাদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি।
দোকানি ছৈয়দ নুর বলেন, মাত্র এক মাস আগে বোনদের স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে দোকানটি দিয়েছি। এখনো ঠিকমতো ব্যবসা শুরু করতে পারিনি। আগে থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। দোকানটি ভেঙে দিলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।
অন্যদিকে, উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন ব্যবসায়ী শহিদুল ইমরান বলেন, সড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনার কারণে পর্যটকদের চলাচলে দীর্ঘদিন দুর্ভোগ ছিল। এখন স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ায় চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা সওজের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই সওজের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। শনিবার অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং অভিযান পর্যায়ক্রমে লিংক রোড পর্যন্ত চলবে।
সওজের সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, অভিযানের আগে মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
