লাইভ নিউজ ডেস্ক | livenews.com.bd
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন। তবে ম্যাচ শেষের পরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা দৌড়ে গিয়ে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময় মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং পরে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে স্পেনের দানি ওলমোর দিকে ঘুষি চালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। যদিও এরিক গার্সিয়া তাকে সরিয়ে দিলে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ সরাসরি লাল কার্ড দেখান লিয়ান্দ্রো পারদেসকে। এ সময় আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি খেলোয়াড়দের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ফিফা একজন স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি ও এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মলিনার বিরুদ্ধে দুটি, পারদেসের বিরুদ্ধে তিনটি এবং সহকারী কোচ আয়ালার বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শারীরিক হামলার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের পৃথক অভিযোগও আনা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের গাভির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াসুলভ নয় এমন রাজনৈতিক বার্তা প্রচার, দলীয় অসদাচরণ, বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ম্যাচের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার বিষয়।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা অসদাচরণের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে কমপক্ষে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং শারীরিক হামলা বা সহিংসতার ঘটনায় দোষী হলে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন। পাশাপাশি জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
তদন্ত শেষে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
