রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে একটি নতুন আইন অনুমোদন করতে যাচ্ছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের ভাইস স্পিকার আলী নিকজাদকে উদ্ধৃত করে জানানো হয় যে, প্রস্তাবিত ১২ দফার এই পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
এই প্রস্তাবিত আইনের অধীনে ইসরায়েলি কোনো জাহাজকে কখনোই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর জাহাজ—যাকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে—এই জলপথ ব্যবহারের আগে ইরানকে যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং এরপর পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। অন্যান্য সকল দেশের জাহাজকেও এই প্রণালি অতিক্রম করার জন্য ইরান সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর শুক্রবার ইরান সংশোধিত আরেকটি প্রস্তাব পেশ করে। এই বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি শনিবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এখন বল আমেরিকার কোর্টে এবং তাদেরকেই বেছে নিতে হবে তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাতের পথে।
সংকীর্ণ এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
