রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরান থেকে পাঠানো নতুন শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তা আমি শিগগিরই পর্যালোচনা করব। তবে একইসঙ্গে তিনি বিরূপ মন্তব্য করে বলেন যে, গত ৪৭ বছরে মানবতার এবং বিশ্বের যে ক্ষতি তারা করেছে, তার জন্য ইরান এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি; তাই এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না।
এর আগে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে, দেশটির সরকার মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।
জানা গেছে, লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে ইরান। দেশটির দাবি, শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংকটের স্থায়ী সমাধানই তাদের মূল লক্ষ্য। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ আজ রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৯ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। তেহরান সেই প্রস্তাবের পাল্টা জবাবে এই ১৪ দফা পরিকল্পনা জমা দিল। পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি চলছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সম্মেলনে বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের কাছে একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে ইরান। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাত বজায় রাখবে— সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।
তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইরান তা নাকচ করে বলেছে, যাবতীয় সমস্যার সমাধান ৩০ দিনের মধ্যেই হতে হবে।
ইরানের দেওয়া এই নতুন শান্তি পরিকল্পনায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভবিষ্যতে কোনো প্রকার সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সব মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। বিদেশে জব্দ করা ইরানের সব সম্পদ ফেরত দিতে হবে। লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ কঠিন হতে পারে। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর এই নতুন উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত দাবি তোলার অভিযোগে সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।
