শনিবার, ০২ মে, ২০২৬
আফ্রিকার অর্থনীতির জন্য বড় এক বাণিজ্যিক সুযোগ ঘোষণা করেছে গণচীন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫৩টি দেশ এখন থেকে চীনের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।
বিশেষ এই সুবিধার আওতায় আফ্রিকার বৃহত্তম ২০টি অর্থনীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকা এই উদ্যোগকে আফ্রিকা-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনা সরকারের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের জন্য আফ্রিকার দেশগুলোকে তাদের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুক্রবার (১ মে) থেকে এই শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর হয়েছে হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিজিটিএন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে সুরক্ষাবাদী নীতি জোরদার করলেও ঠিক উল্টো পথ অনুসরণ করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি কৃত গাড়ি-ট্রাকের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
আফ্রিকার যেসব দেশ চীনের এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে সেগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া ও কেনিয়াসহ আফ্রিকার শীর্ষ অর্থনীতিগুলো। এর আগে চীন ৩৩টি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র আফ্রিকান দেশের জন্যও শুল্ক তুলে নিয়েছিল। ফলে এখন আফ্রিকার ৫৪টির মধ্যে ৫৩টি দেশ এই সুবিধা পাচ্ছে।
শুধু ইসওয়াতিনি দেশটি চীনের এই শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে রয়েছে। এই দেশটি সুবিধা না পাওয়ার মূল কারণ এটি একমাত্র আফ্রিকান দেশ যা তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
চীনের স্টেট কাউন্সিলের শুল্ক কমিশন বলেছে, এই উদ্যোগ চীন ও আফ্রিকার পারস্পরিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, নতুন নীতির আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২৪ মেট্রিক টন আপেলের একটি চালান শুক্রবার ( ১ মে) শেনঝেনে পৌঁছেছে যা প্রথম শুল্কমুক্ত পণ্য হিসেবে চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নীতি বিশেষভাবে উপকৃত করবে আইভরি কোস্ট ও ঘানা। একই সঙ্গে কেনিয়ার কফি, অ্যাভোকাডো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ফল এবং ওয়াইন যেগুলোর ওপর আগে ৮ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছিল সেগুলোও মওকুফ করা হয়েছে।
