শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে সমতা ফেরানোর পর কর্নার ফ্ল্যাগ উপড়ে নিয়ে ‘বন্দুক চালানোর’ ভঙ্গিতে গোল উদযাপন করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইসরায়েলি ফুটবলার সাঈদ আবু ফারচিকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই উসকানিমূলক এই উদযাপনের অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ২০ বছর বয়সী তরুণ এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে সাঈদ আবু ফারচির সমতাসূচক গোল এবং পরবর্তী এই লাল কার্ডের ঘটনার পর শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইসরায়েল। ম্যাচটির শেষ মুহূর্তে ফিলিপ ময়েনে ও সাশা কালাইজিচের জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ক্লাব কলোরাডো র্যাপিডসে খেলা এই তরুণের জন্য এমন গোল উদযাপন অবশ্য নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বে ইসরায়েলি ক্লাব ম্যাকাবি তেল আবিবের হয়ে খেলার সময়ও তিনি একইভাবে উদযাপন করেছিলেন, যেখানে তার দলের সতীর্থরাও হাতের আঙুলে বন্দুকের প্রতীক তৈরি করে সাড়া দিয়েছিলেন। ফুটবলের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী উসকানিমূলক উদযাপন এবং কর্নার ফ্ল্যাগ স্থানচ্যুত করা উভয়ই কার্ড পাওয়ার মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিলে কিছুটা বিভ্রান্ত ও হতবাক দেখা যায় এই তরুণ ফুটবলারকে। গাজা সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনার মাঝে তার এই অঙ্গভঙ্গি নিয়ে জোর সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এমন একসময়ে এই ঘটনাটি ঘটল যখন আগামী দুটি ম্যাচে ইসরায়েলকে বয়কট করার জন্য আয়ারল্যান্ডে জোর দাবি উঠছে। আগামী রবিবারের নির্ধারিত ম্যাচের আগে আইরিশ কোচ হেইমির হলগ্রিমসন মন্তব্য করেছিলেন যে তারা ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছেন’। তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) আয়ারল্যান্ড কোচের বিরুদ্ধে ‘মূর্খতা, অজ্ঞতা ও ভণ্ডামির’ অভিযোগ তুলেছে। আইএফএ তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় লিখেছে যে তারা মানবজাতিকে অসংখ্য নোবেল পুরস্কার উপহার দিলেও আয়ারল্যান্ড কোচের এমন মানসিকতার কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। তারা আরও উল্লেখ করে যে তারা কোনো অজ্ঞতা বা ভণ্ডামির সঙ্গে খেলছে না, বরং এমন এক কোচের বিরুদ্ধে খেলছে যিনি নিজেই এসবের প্রতীক।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আইরিশ কোচের এসব মন্তব্যের বিষয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর পরিকল্পনা করছে আইএফএ। উল্লেখ্য, গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করা হলেও গাজায় আগ্রাসনের পর কেন ইসরায়েলকে একই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আইরিশ কোচ হলগ্রিমসন। তিনি সম্প্রতি নিজের সেই পুরোনো অবস্থানের ওপর দৃঢ় থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে বর্তমানে ইসরায়েল নিজ দেশের মাটিতে যেকোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে রবিবারে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের নির্ধারিত প্রথম ম্যাচটি হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডে জাতীয় দল কর্তৃক ম্যাচ বয়কট না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আগামী মাসে ফিরতি ম্যাচটিও সার্বিয়ার একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
