শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাটে অবস্থিত বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভিএনএসজিইউ) আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থাসম্পন্ন ৩৮৮টি সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে।
ফ্যানগুলোতে এমন একটি স্প্রিংভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে সক্রিয় হয়। এতে ফ্যানটি নিচের দিকে হেলে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পাঁচটি ছাত্রীনিবাস ও চারটি ছাত্রাবাসে এসব ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রীনিবাসগুলোতে ১৭০টি এবং ছাত্রাবাসগুলোতে ২১৮টি ফ্যান বসানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, বিশেষভাবে তৈরি এসব ফ্যানের উদ্দেশ্য হলো আবাসিক কক্ষগুলোতে সিলিং ফ্যানকে আত্মহত্যার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো। সাধারণ অবস্থায় এগুলো প্রচলিত সিলিং ফ্যানের মতোই কাজ করে। তবে নির্ধারিত সীমার বেশি ওজন পড়লে এর নিরাপত্তাব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ফ্যানটিকে নিচের দিকে হেলিয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
যেভাবে কাজ করে বিশেষ ফ্যান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিশোরসিংহ চাভদার ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যানগুলোতে স্প্রিংভিত্তিক একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ১০ কেজির বেশি ওজন পড়লে স্প্রিং সক্রিয় হয়। ফলে ফ্যানটি স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নিচের দিকে নেমে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যানকে ঝুলে থাকার অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকি কমানো এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি ঠেকানোই মূল লক্ষ্য। তবে এটি আত্মহত্যা প্রতিরোধের একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মাত্র; সব ধরনের আত্মহত্যার চেষ্টা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।
উপাচার্য চাভদা জানিয়েছেন, প্রতিটি বিশেষ ফ্যানের দাম ২ হাজার ৫০০ রুপির বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর সামনে আসার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ ফ্যান স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
চাভদা বলেন, “বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা প্রায় ৩৮৮টি বিশেষ সিলিং ফ্যান স্থাপন করছি। এগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, ওজন পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্প্রিংভিত্তিক ব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং ফ্যানটি নিচের দিকে নেমে আসে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে একটি মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।”
তিনি বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যাওয়ায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসংক্রান্ত মানসিক চাপ নিয়েও কথা বলেন উপাচার্য। তার মতে, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া কখনওই জীবনের ইতি টানার কারণ হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সামনে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।
চাভদা বলেন, “ছয়বার হোক কিংবা ১২ বারেরও বেশি- আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিকবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরীক্ষাসংক্রান্ত মানসিক চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। আত্মহত্যার চিন্তা থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে।”
শুধু অবকাঠামো নয়, প্রয়োজন মানসিক সহায়তাও
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগকে আবাসিক হলগুলোর সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ এবং ব্যক্তিগত নানা পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ঝুঁকি কমাতে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ ফ্যান একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় কাউন্সেলিং, সহজে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ এবং সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি আবাসিক হলে ৩৮৮টি বিশেষ ফ্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভিএনএসজিইউ। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এই ব্যবস্থা আবাসিক হলগুলোতে নিরাপত্তার অতিরিক্ত একটি স্তর যোগ করবে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
