শিরোনাম

হরমুজের ভৌগলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে সমঝোতায় ইরান-ওমান

 বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর জন্য নির্ধারিত ‘নিরাপদ’ চলাচলের পথের ভৌগলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে একমত হয়েছে তেহরান ও মাস্কাট। বুধবার (৭ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য নিশ্চিত করেনছেন।

তিনি বলেন, সমুদ্রপথটির স্থানাঙ্কগুলো কীভাবে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার কাছে জানানো হবে, সে বিষয়েও দেশ দুটি সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থার কথা জানানো হবে। আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আস্থা ও সম্পৃক্ততা জোরদার করা এবং সামরিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এই চুক্তিটি কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে গৃহীত একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এর আগে আগস্টে ওমান ও ইরান একটি অস্থায়ী নৌ-চলাচল করিডোর তৈরি, মাইন অপসারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাসহ একটি স্থায়ী করিডোর তৈরির লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল। তবে এই চুক্তির অর্থ এই নয়, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের কোনো শর্তহীন নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

ইরান আগেই জানিয়েছিল, কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়াটা আরও ব্যাপক কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। গত ২৫ আগস্ট ওমান জানিয়েছিল, দেশ দুটি একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ-চলাচল করিডোরের ‘কাঠামো’ নিয়ে একমত হয়েছে; যার আওতায় স্থায়ী করিডোর প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে কারিগরি আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২৬ আগস্ট ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, অস্থায়ী পথটি সাত মাইল প্রশস্ত হবে এবং এর প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মানে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া নয়।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেন, চলাচলের পথ নিয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। তবে তিনি প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের শর্তের সাথে যুক্ত করেন।

আইআরজিসি  কমান্ডারের সতর্কতা
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সর্বাধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট রুট বা চলাচলের পথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে ওমানের উপকূল ঘেঁষে থাকা বিকল্প দক্ষিণ নৌ-পথটির কথা উল্লেখ করেন। নাকদি আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, কৌশলগত এই জলপথের পাথুরে অংশগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত করে এই কয়েকটি পথ তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছোট ছোট নৌকায় করে তেল চোরাচালান এবং তা ট্যাংকারে স্থানান্তরের কাজে এই পথগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ইরানের নানা বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি সফলভাবে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন দাবির সরাসরি পাল্টা জবাব ছিল নাকদির এই হুঁশিয়ারি দিলেন।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *