রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও আত্মহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার গভীর রাতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে ভবনের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গণধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ অথবা আত্মহত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী মেয়েদের হোস্টেলের কাছে জড়ো হন। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভ একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা জানালার কাচ ভাঙচুর করেন, ইট ও ফুলের টব ছুড়ে মারেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনের অংশে আগুন ধরিয়ে দেন।
কাপুরথালার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) গৌরব তুরা জানান, চার-পাঁচ দিন আগে ক্যাম্পাসের কৃষি বিভাগের কাছাকাছি এক তরুণী আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে ওই মৃত্যুর সঙ্গে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণের অভিযোগের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কেউ দাবি করছেন এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন, আবার কেউ বলছেন তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগও জমা পড়েনি।
পুলিশ জানিয়েছে, কথিত ধর্ষণের শিকার নারী এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের পরিচয়ও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছিল বলে জানিয়েছেন এসএসপি গৌরব তুরা।
অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলল বিশ্ববিদ্যালয়
লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। কিছু ‘অসামাজিক গোষ্ঠী’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
