শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ইরান-সমর্থিত হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোটটি জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের দিকে এবং ড্রোন দুটি রাজধানী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসছিল। সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি জোট।
এর আগে রাতে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি করে। তবে রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাইয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর সৌদি আরবের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘটনাও রয়েছে।
হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌ-চলাচল ব্যবস্থা। এসব হামলা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া চাপ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি পণ্য পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত লোহিত সাগরপথও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক প্রধানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান হুমকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশই নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে। সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করাই চুক্তির লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান শনিবার ভোরে জানান, রিয়াদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের ওপর হামলা মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
