সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেশটির তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। খবর রয়টার্সের।
বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়ায়।
রয়টার্স বলছে, সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি চলতি সেপ্টেম্বরে দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে, যা আগস্টে নেমে গিয়েছিল প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেলে।
তবে এর মধ্যেই সৌদি আরবে হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।
তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও ছিল। রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি আগুন ও ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবশ্য হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। হুথিরা রিয়াদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে তার আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত।
তবে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে অপরিশোধিত তেল, পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবহন গত ছয় মাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।
ফলে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার ঝুঁকি এখনো থাকলেও তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং জ্বালানি পরিবহনপথে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফেরার প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
