শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
সম্প্রতি ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা শান্তি পর্ষদ (বোর্ড অব পিস) পরিকল্পনা নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করায় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ:
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউজ নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে একটি নীতিগত ঘোষণা হিসেবে দেখার চেয়ে বরং নির্বাচনী মৌসুমের রাজনীতি হিসেবেই দেখছে।
নেতানিয়াহু পরবর্তীতে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজা পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ থাকার পরও এটিকে একটি সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি দিতে তিনি গাজায় হামলা কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও রাজি হন।
তারপর থেকে, ইসরায়েল গাজায় কিছুটা কম হামলা চালিয়েছে এবং আইডিএফ হলুদ লাইন থেকে পিছু হটেছে, যেখানে চুক্তি অনুযায়ী তাদের মোতায়েন করার কথা ছিল।
কুশনার আগামী সপ্তাহে গাজা পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ইসরায়েল সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান নেতানিয়াহুর প্রতিপক্ষদের
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা, যার মধ্যে আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও রয়েছেন, তারা উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাকে সমর্থন দিয়ে দিতে পারেন।
তাদের সহযোগীরা বলেছেন যে, বিরোধী দলীয় ব্যক্তিরা পারস্পরিক বন্ধু, দাতা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক মিত্রদের মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর দুর্বল অবস্থানের কারণে ট্রাম্প তার সঙ্গে কোনও বিষয়ে জড়াতে বা তাকে সাহায্য করতে আগ্রহ হারিয়ে থাকতে পারেন।
ট্রাম্প ইসরায়েলে এখনও জনপ্রিয়। তবে তার ইরান চুক্তি এবং সেই চুক্তি লঙ্ঘিত হওয়ার পর যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্তের কারণে ইসরায়েলে গত তিন মাসে তার অবস্থান বা ভাবমূর্তি কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
ইরান, গাজা, সিরিয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ট্রাম্প যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, ইসরায়েলিরা তাতেও আপত্তি জানিয়েছে।
চারবার নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া এড়িয়েছেন ট্রাম্প
সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পকে চারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেন কিনা। প্রতিবারই তিনি তাকে সমর্থন করা বা অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
জুলাই মাসে যখন রেডিও সঞ্চালক হিউ হিউইট জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ইসরায়েলে এ পদের জন্য আরও উপযুক্ত কেউ আছেন কিনা, তখন ট্রাম্প উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি নেতানিয়াহুর বেশিরভাগ প্রতিপক্ষকে চেনেন না।
ট্রাম্প সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে একজন মহান যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি কথাগুলো বলেছেন অতীত কাল ব্যবহার করে, যা থেকে মনে হয় নেতানিয়াহুর সেই সময়ের ভূমিকা এখন আর বর্তমান নেই।
যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ট্রাম্প তাদের শেষ বৈঠকে নেতানিয়াহুর ক্ষমার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে উত্থাপন করেছিলেন, তবুও তিনি কয়েক মাস ধরে এটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেননি।
ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নির্বাচনের গুরুত্ব কি?
ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার শেষ দুই বছরে তার পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক কর্মপরিকল্পনার জন্য ইসরায়েলের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন ইরান সংকট ‘কোনও চুক্তিও নেই, কোনও যুদ্ধও নেই’ এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
ট্রাম্প গাজায় তার শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অগ্রগতি আনা, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি করা নিয়ে মধ্যস্থতা করতে চান।
ট্রাম্প এবং তার দল ইসরায়েলের ২০১৯ সালের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন, যে সময়ে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং পশ্চিম এশিয়ায় কূটনীতির একটি বছর নষ্ট হয়েছিল।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, হোয়াইট হাউজ সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না বা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীন রাজনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কর্মসূচি বিলম্বিত হোক তা চাইবে না।
