রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
কৃষিজমি সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়েই দেশে শিল্পায়নের প্রসার ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ কিংবা নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত, অকৃষি ও এক ফসলি জমিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে উর্বর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কৃষিজমিকে রক্ষা করেই শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে নানামুখী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য আমাদের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালা অনুসরণ করেই জমি নির্বাচন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীগুলোর সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় জমি সংযুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে নতুন বিসিক শিল্পনগরীও গড়ে তোলা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রচলিত শিল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও হালকা প্রকৌশল খাতকে আরও শক্তিশালী করা।
সৈয়দপুরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রেলওয়েকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে হালকা প্রকৌশল শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা ও চাহিদা রয়েছে। তাই এসব শিল্পের বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্লাস্টিক পণ্য বর্জন ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন করা এককথা, আর সেই আইন বাস্তবায়ন করা আরেক কথা। ইচ্ছে করলেই একদিনে প্লাস্টিক পণ্য বা পলিথিন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের পাট উৎপাদন ও সরবরাহ সেই পর্যায়ে পৌঁছেনি যে হঠাৎ করে সব প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে পাটের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়িয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
