বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দামামা বাজতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, অথচ ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞের সম্প্রচার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। বিশ্বের ১৭৫টি দেশে ইতিমধেই টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত হয়ে গেলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই দেশে এখনো কোনো টিভি চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাথে ফিফার চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
সাধারণত বিশ্বকাপের মাসখানেক আগে থেকেই প্রতিটি দেশের সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো প্রচার-প্রচারণায় মেতে ওঠে। কিন্তু এবার ভারতের চিত্রটা একদমই ভিন্ন। জানা গেছে, ফিফার চড়া দাম এবং ভারতীয় ব্রডকাস্টারদের প্রস্তাবিত মূল্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্যের কারণেই আলোচনা থমকে গেছে।
রিলায়েন্স এবং ডিজনি স্টারের যৌথ উদ্যোগ ‘জিওস্টার’ এই স্বত্বের জন্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করলেও ফিফা শুরু থেকেই ১০০ মিলিয়ন ডলারের আশেপাশে দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়াও উত্তর আমেরিকায় খেলা হওয়ার কারণে ভারতের দর্শকদের জন্য সময়ের ব্যবধান একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ম্যাচই মধ্যরাতে শুরু হওয়ায় ব্রডকাস্টাররা বিজ্ঞাপন থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। শেষ মুহূর্তে প্রসার ভারতী বা ডিডি স্পোর্টস আলোচনায় আসতে পারে এমন গুঞ্জন থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে চীনের পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। গত বিশ্বকাপে মোট ডিজিটাল ভিউয়ারশিপের অর্ধেকই ছিল চীনের দর্শকদের। অথচ এবার দেশটির রাষ্ট্রীয় চ্যানেল সিসিটিভি এখন পর্যন্ত কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। ফিফা বিষয়টিকে ‘গোপনীয় আলোচনা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও ম্যাচের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ততই বাড়ছে।
এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে খেলার পরিধি বাড়লেও ভারত বা চীন কেউই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে দল না থাকলেও এই দুই দেশে ফুটবলের উন্মাদনা যে কোনো ফুটবল পাগল দেশের চেয়ে কম নয়। বিশেষ করে ভারতের কেরালা বা পশ্চিমবঙ্গের মতো জায়গাগুলোতে ফুটবল কেবল খেলা নয় বরং আবেগ।
