বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬
কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরীতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এখন চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও ড্রেন পানিতে তলিয়ে যায়, অনেক কারখানায় পানি ঢুকে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিনের বৃষ্টির পানি কোথাও কোথাও এক সপ্তাহ পর্যন্ত জমে থাকছে। ফলে শিল্পাঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা ও দুর্ভোগ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে বিসিক শিল্প এলাকা যেন স্থায়ী জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হয়। এতে প্রায় ১৫ হাজার ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, ক্রেতা, পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন। একই সঙ্গে বাড়ছে শিল্প উৎপাদনের খরচও। দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বিসিক ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে ৫৪ দশমিক ৩৫ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী। বর্তমানে এখানে ১৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৭টি চালু রয়েছে। গত অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হয়েছে এবং সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। তবে ভাঙাচোরা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে শিল্পাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে নানামুখী সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিসিক কার্যালয়ের সামনের মূল সড়ক ময়লা পানিতে ডুবে আছে। নারী-পুরুষ কর্মজীবীরা সেই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। বিসিকে প্রবেশের ১ নম্বর সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে সেটি অনেকটা গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার মতো মনে হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পাকা সড়ক ভেঙে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, সড়কটি সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন ড্রেনেও কচুগাছ জন্মে পরিত্যক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ৩ নম্বর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ময়লা পানি জমে আছে। খন্দকার ফ্লাওয়ার মিল, হাশেম ইন্ডাস্ট্রিসহ কয়েকটি কারখানায় পানি ঢুকে পড়েছে।
খন্দকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ খন্দকার বলেন, বিসিকের ১ নম্বর সড়কটির এখনো সংস্কার হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থারও চরম সংকট রয়েছে। সারা বছরই সড়ক ও ড্রেনে পানি জমে থাকে। বিসিকের মূল সড়ক ও ৩ নম্বর সড়কের অবস্থা যেন পরিত্যক্ত এলাকার মতো।
তরুণ উদ্যোক্তা পরিষদের ট্রেজারার রিয়াজ আহমেদ রনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকার পানি বিসিক হয়ে নামে, কিন্তু বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি আউটলেট রয়েছে। আরেকটি আউটলেট তৈরি করা গেলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত।
বিছমিল্লাহ মুড়ি ফ্যাক্টরির অ্যাকাউন্ট অফিসার তাফসীর আহমেদ মাহি বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়। অনেক সময় কারখানায় পানি ঢুকে ধান-চাল নষ্ট হয়। পানি থাকলে ক্রেতারাও আসতে চান না। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি।
শ্রমিক মো. মাসুম ও মাহবুবুল হক বলেন, মালিক-শ্রমিক সবাই কষ্টে আছি। পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দ্রুত ড্রেন সংস্কার ও রাস্তা উঁচু করা প্রয়োজন। হাশেম ইন্ডাস্ট্রির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার নুরুল করিম রাফসান বলেন, “বৃষ্টি হলেই কারখানায় পানি ঢুকে পড়ে। তখন ব্যবসার চেয়ে পানি নিষ্কাশন করতেই বেশি সময় চলে যায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুনতাসীর মামুন বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার পানি বিসিক শিল্প নগরী হয়ে নামে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিসিক এলাকার অধিকাংশ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের প্রাক্কলন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
