যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, যৌথ মহড়ায় চীন-রাশিয়া-ইরানের যুদ্ধজাহাজ

 শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এবার আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথ ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় পৌঁছেছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ। একটি সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিতে একযোগ হয়েছে মিত্রদেশগুলো। 

এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ এবং একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মহড়া শুরু হবে। মহড়ার উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রক্ষার জন্যই এই যৌথ অভিযান।

এই মহড়ায় ব্রিকস জোটের অন্যান্য দেশ, যেমন- ব্রাজিল, ভারত বা সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নিচ্ছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সব দেশের তালিকা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

এই নৌ মহড়াটি এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভেনেজুয়েলা–সংশ্লিষ্ট একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে, যার মধ্যে উত্তর আটলান্টিকে একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল।

ফলে তেল বাণিজ্য নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে রাশিয়া ও তার মিত্রদেশগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় মস্কো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

এদিকে এই যৌথ নৌ মহড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগেও একাধিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করেছে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *