শিরোনাম

‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করব, নাকি চুক্তি করব’ : জাতিসংঘে ট্রাম্প

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করব, নাকি চুক্তি করব’- এমন প্রশ্ন তুলে ইরানের সামনে দুটি পথের কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তেহরান চুক্তিতে না এলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার সামনে রয়েছে। তবে একই সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। অন্যদিকে চুক্তি না হলে ইরানকে এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়ার কথাও বলেন, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি সৃষ্টি করার সুযোগ থাকবে না।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে তারা আবার গড়ে উঠবে এবং আগের চেয়েও শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠবে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং দ্রুত তা করব, যাতে তারা আর কখনো মানুষ ও দেশগুলোকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়? আমি কি তাদের নরকে ঠেলে দেব?’

তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরপরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। তবে তেহরানকে চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের রাজি না হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ইরান প্রসঙ্গে নিজের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনারও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবেন না। এ সময় তিনি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার আহ্বানও জানান। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে থাকা ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বেরিয়ে যান।

ইরান প্রসঙ্গের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় ফেরার পর তার উদ্যোগে আটটি সংঘাতের অবসান হয়েছে। এর মধ্যে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, কঙ্গো ও রুয়ান্ডা, পাকিস্তান ও ভারত, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার সংঘাত এবং গাজা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং এই যুদ্ধেরও অবসান ঘটবে। তার ভাষ্য, তিনি আশা করছেন অন্যদের ধারণার চেয়েও দ্রুত এই যুদ্ধের সমাধান হবে।

জাতিসংঘের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে অভিহিত করার পক্ষে মত দেন। তার বক্তব্য, ‘কৃত্রিম’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে যেন নকল বা অবাস্তব কিছু মনে করায়। অথচ এটি বাস্তব এবং অসাধারণ। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথাও বলেন তিনি।

বক্তব্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘকে ‘বৈশ্বিক সরকারের’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি এর বিরোধিতা করেন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ, ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থারও সমালোচনা করেন তিনি।

এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে বিশ্বে বিভাজন বাড়ছে বলে সতর্ক করেন। ভূরাজনৈতিক বিরোধ, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়কে তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ট্রাম্প একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকও করেন। এর মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *