শিরোনাম

গোলের রেকর্ড গড়েও কি ব্যালন ডি’অর পাবেন এমবাপ্পে?

 রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে একের পর এক রেকর্ড গড়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের এই তারকা।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে বাজির দর অনুযায়ী এমবাপ্পে এগিয়ে না থাকলেও পুরস্কারটি জিততে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে কোনো চেষ্টাই বাদ রাখছেন না তিনি। আগামী সোমবার লন্ডনে বসবে এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি গোল করেন এমবাপ্পে। দুই প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল মৌসুম কাটালেও কোনো শিরোপা জিততে পারেনি তাঁর দল।

বিশ্বকাপেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে উঠে আসেন এমবাপ্পে। ২২ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ২২। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিওনেল মেসির গোল ২১টি।

তবে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত সাফল্যের বিপরীতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় ব্যর্থতা। লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তারা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে চতুর্থ হয় ফ্রান্স।

এ কারণে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এমবাপ্পের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থানও শক্তিশালী। স্পেনের লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপ ও লা লিগা জিতেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনও গত মৌসুমে তিনটি শিরোপা জিতেছেন।

এমবাপ্পে অবশ্য মনে করেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফরাসি রেডিও আরএফআইকে তিনি বলেন, ‘খামের মধ্যে কোনো দলের নাম ঘোষণা করা হবে না, একজন খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।’

গত এক দশকে ব্যালন ডি’অরজয়ীরা প্রত্যেকেই পুরস্কার জয়ের বছরে অন্তত একটি শিরোপা জিতেছেন। ২০২৫ সালে পুরস্কার জেতা উসমান দেম্বেলে পিএসজিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জেতা রদ্রিও স্পেনের হয়ে ইউরো এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিলেন।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সে বছর ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৬ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। রোনালদোর সেই অর্জনই এমবাপ্পের সামনে আশার সুযোগ তৈরি করছে।

এবারের মনোনয়নের আগে নয়বার ব্যালন ডি’অরের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন এমবাপ্পে। ২০২৩ সালে হয়েছিলেন তৃতীয়। এবারও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও প্রথমবারের মতো পুরস্কার জিততে দলীয় শিরোপার অভাব কাটিয়ে উঠতে হবে তাঁকে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *