শিরোনাম

ভারত-চীনের ওপর ১০০% শুল্ক আপাতত স্থগিত করলেন ট্রাম্প

 শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের প্রয়োগ আপাতত শিথিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, রাশিয়াসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে আপাতত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য তিনি মার্কিন কংগ্রেসে একটি সনদও জমা দিয়েছেন।

তবে এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং সেগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে চাইলে ট্রাম্প আবারও এসব পদক্ষেপ কার্যকর করতে পারবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে স্বাক্ষরিত ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’-এর আওতায় এসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল। আইনটিতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশ—চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান থেকে আমদানি করা পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়। পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা জ্বালানি পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগও ছিল।

আইনটির উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করা। রাশিয়ার জ্বালানি খাত, ব্যাংক, সরকারি কর্মকর্তা এবং দেশটির সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত

রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনে ভারত। ফলে দেশটির ওপর নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য রফতানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারত।

এর আগে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ভারত জানিয়েছিল, দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার। সে জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি নির্ধারণ অব্যাহত রাখবে দেশটি।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্যের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ভারত সতর্ক করেছিল।

পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে এবং পরবর্তী মাসগুলোতে আরও চালান পাঠানোর কথা রয়েছে। এ চুক্তির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের অংশীদারদের জন্য অশোভন এবং দুর্বলতার পরিচায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে হামলা চালিয়েও মস্কো এমন চুক্তির মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে জেলেনস্কির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *