বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইউক্রেনজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার মধ্যে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ফের নতুন করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরেও দেশটিতে ১০০ টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বেশির ভাগই ঠেকানো হলেও ১৪টি স্থানে ড্রোন হামলা ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বুধবার সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আজ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে কিইভ, খারকিভ, সুমি অঞ্চল এবং পোল্টভা অঞ্চলে। নিপ্রো এবং চেরকাসি অঞ্চলেও পরিস্থিতি কঠিন।”
মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে ‘বর্বর’ ও ‘বিশেষভাবে নিকৃষ্ট’ আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
রাশিয়ার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপের পর স্টারমার এই মন্তব্য করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হতেই রাশিয়া হামলা শুরু করে। সোমবার রাতে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি জানান, জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলার পর কিইভে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে ২০০’র বেশি কর্মী কাজ করছে। কিইভের ১ হাজার ১০০’র বেশি অ্যাপার্টমেন্টে বিদ্যুৎ নেই। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দ্রুজকিভকা শহরে রাশিয়ার গুচ্ছ বোমা হামলায় সাতজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান।
ট্রাম্প ইউক্রেনে যুদ্ধ থামানোর জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবুধাবিতে রাশিয়া-ইউক্রেনকে নিয়ে বুধবার বৈঠকও তিনি আয়োজন করেছেন।
তবে রাশিয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আধাবিতে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনাতে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি হবে কিনা তা এখনও বলা যাচ্ছে না। রাশিয়ার চলমান হামলার কারণে যুদ্ধ বন্ধে আসন্ন কোনও অগ্রগতি হওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
