রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম ‘কুয়্যার’ নারী অ্যাথলেট অ্যাম্বার গ্লেন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতি তার আচরণের সমালোচনা করার পর অনলাইনে তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি মিলানে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৬ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটকে আমেরিকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তার সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সময়টা বেশ ‘কঠিন’। তিনি তার অবস্থান থেকে সবাইকে শক্ত থাকার আহ্বান জানান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে অ্যাম্বার প্রকাশ করেন যে, তার সেই বক্তব্যের পর থেকে তিনি ‘ভয়াবহ’ মাত্রায় ঘৃণা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। তিনি লেখেন, আমেরিকার অন্যতম সেরা শক্তি ‘বাকস্বাধীনতা’ ব্যবহার করে যখন আমি আমার অনুভূতির কথা জানালাম, তখন আমাকে চুপ করে থাকার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িকভাবে বিরতি নিচ্ছি, তবে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করব না।
ক্রীড়াবিদদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া সমালোচকদের উদ্দেশ্যে অ্যাম্বার বলেন, অনেকেই বলেন—তুমি একজন অ্যাথলেট, নিজের কাজে মন দাও আর রাজনীতি নিয়ে মুখ বন্ধ রাখো। কিন্তু রাজনীতি আমাদের সবার দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। আমি এ বিষয়ে চুপ থাকব না।
অ্যাম্বার গ্লেন একা নন, ফ্রিস্টাইল স্কিয়ার ক্রিস লিলিস এবং হান্টার হেস-ও বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে তাদের ‘মিশ্র অনুভূতি’র কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই নাগরিকের মৃত্যু এবং আইসিই-এর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। এমনকি গত ৬ ফেব্রুয়ারি মিলানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছবি দেখালে দর্শকরা দুয়োধ্বনি দেন।
মিলান অলিম্পিকের আয়োজক শহরেও বর্তমানে অভিবাসন নীতি ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যার প্রভাব সরাসরি অলিম্পিক ভিলেজ এবং অ্যাথলেটদের ওপর পড়ছে।
