শিরোনাম

অভিবাসীদের নিতে আপত্তি, বিনিময়ে অর্থ দেবে পর্তুগাল

 বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন নীতির আওতায় শরণার্থী গ্রহণের পরিবর্তে অর্থ দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে পর্তুগাল। দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে তারা ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী না নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনকে বিপুল পরিমাণে অর্থ পরিশোধে প্রস্তুত। খবর: ইনফোমাইগ্রেন্টস

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্ধারিত অভিবাসী স্থানান্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের নিতে অস্বীকার করেছে পর্তুগাল। এজন্য ইউরোপীয় কমিশনকে ৮৪ লাখ ইউরো দিতে হচ্ছে পর্তুগালকে। অবশ্য এই অর্থ দিতে রাজি হয়েছে দেশটি। অভিবাসীদের গ্রহণের পরিবর্তে অর্থ দিয়ে হলেও ইইউর ‘সংহতি প্রক্রিয়া’ বা সলিডারিটি মেকানিজমে পর্তুগাল অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম অবজারভাদর।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম এসআইসি নোতিসিয়াস এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বিবেচনায় ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে গ্রহণ করলে পুরো ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সরকার দাবি করেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ আগামী জুন থেকে ইউরোপীয় কমিশনকে এই অর্থ পরিশোধ শুরু করবে পর্তুগাল। এই অর্থ ইইউর সংহতি তহবিলে জমা হবে এবং এটি অভিবাসন চাপে থাকা দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলো তিন ধরনের সংহতির যেকোনও একটি বেছে নিতে পারে। আর দতা হলো— আশ্রয়প্রার্থী পুনর্বাসনে সম্মতি, আর্থিক অবদান অথবা বিকল্প কোনও সংহতির ব্যবস্থা প্রস্তাব।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ২০২৬ সালে ২১ হাজারেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে পুনর্বণ্টনে সম্মত হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্তুগালের গ্রহণ করার কথা ছিল মোট অভিবাসীর ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৪২০ জন অভিবাসীকে৷ তবে সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

পর্তুগালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাঁও আমারো এই হিসাব নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং ব্রাসেলসকে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশন পর্তুগালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং দেশটিকে সংহতি প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে অবজারভাদর।

এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি ও স্পেনকে অভিবাসনচাপে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা সংহতি ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাভোগী হবে। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকেও আগের বছরগুলোর সমষ্টিগত অভিবাসনচাপের কারণে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন পরিস্থিতি’র মুখে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব দেশ প্রথম দফার সংহতি তহবিলে তাদের অবদান পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কমিয়ে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোও ওই ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন পরিস্থিতি’ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

জার্মানিকেও প্রথম বছরে আর্থিক বা অন্য কোনও অবদান দিতে হয়নি। কারণ দেশটি ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বড় আকারের শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।

Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *